Sunday, March 1, 2026
Google search engine
Homeসারাদেশঢাকাসড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সেফটি স্যালুয়েশন ফাউন্ডেশন অবস্থান কর্মসূচি

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সেফটি স্যালুয়েশন ফাউন্ডেশন অবস্থান কর্মসূচি

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে সেফটি স্যালুয়েশন ফাউন্ডেশন অবস্থান কর্মসূচি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এর প্রতিকার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেফটি স্যালুয়েশন ফাউন্ডেশন একটি অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে। রবিবার (১মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর আইন বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। বেপরোয়া গাড়ি চালনা ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। পথচারীদের জন্য নিরাপদ জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ নিশ্চিত করা, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করার দাবী জানান।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন স্লোগান প্রদর্শন করেন। “নিরাপদ সড়ক চাই”, সচেতনতামূলক বার্তা জনসাধারণ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এ সময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সেফটি সলিউশন এর সিইও মোঃ কামরুজ্জামান পলাশ, সেফটি কনসালট্যান্ট মোঃ জিয়াউল আহসান, সংগঠনের হেড অব অনলাইন শিহাবুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি অসংখ্য পরিবারের কান্না ও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ। তারা দ্রুত বিচার, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং চালকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের উপর জোর দেন।
বক্তব্যে বলেন, সকল গণপরিবহন চালকের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি, স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিড ব্রেকার ও পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে।

অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হলেও আয়োজকরা জানান, দাবি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।

সচেতনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

গাড়ি চালকদের প্রতি ১। গাড়ি চালানোর পূর্বে ড্রাইভিং মিরর, ব্রেক, হেডলাইট, ব্রেকলাইট ও ইন্ডিকেটর লাইট এবং রেগুলেটরে পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে কিনা দেখে নিন। ২। ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, রোড পারমিট, ইন্স্যুরেন্স ও ব্লু-বুক ইত্যাদির মূলকপি সাথে রাখুন। ৩। শারীরিক, মানসিক অসুস্থতা ও চোখে ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে গাড়ি চালাবেন না। ৪। গাড়ি চলকালীন সময়ে লুঙ্গি ব্যবহার না করে ফুল প্যান্ট ব্যবহার করুন। ৫। গাড়ি চালানোর পূর্বে অবশ্যই সীটবেল্ট বেঁধে নিবেন। ৬। ট্রাফিক আইন, সাইন, সিগন্যাল ও ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলুন, দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে এবং অপরকে রক্ষা করুন। ৭। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল ও বাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় হর্ণ বাজাবেন না এবং সাবধানে (ধীর গতিতে) গাড়ি চালাবেন। ৮। এ্যাম্বুলেন্স, সার্ভিস ও প্রশাসনের গাড়িকে আগে যেতে দিন। ৯। জেব্রা ক্রসিংয়ের পূর্বে গাড়ি থামিয়ে পথচারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাওয়ার সুযোগ দিন। ১০। রাস্তার উপর গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠা-নামা করে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াবেন না। ১১। পথচারী ও ক্ষুদ্র যানবাহন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় এমনভাবে গাড়ি চালাবেন না। ১২। অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে (ওভার স্পীড) গাড়ি চালাবেন না। ১৩। রাত্রিকালে হাই-ভিম বাতি জ্বালিয়ে গাড়ি চালাবেন না। ১৪। কখনোই হেলপারকে দিয়ে গাড়ি চালাবেন না, এতে মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হবেন। ১৫। ঝড়-বৃষ্টি ও শীতের কুয়াশায় সাবধানে গাড়ি চালাবেন। ১৬। টানা তিন ঘন্টার বেশি গাড়ি চালাবেন না। (প্রতি ৩ ঘন্টা গাড়ি চালানোর পর কিছু সময় বিশ্রাম নিন)। ১৭। গাড়ি চালাকালীন সময়ে ধুমপানসহ সকল প্রকার মাদকদ্রব্য সেবন সম্পূর্ণ নিষেধ। ১৮। মটর সাইকেল চালক ও আরোহীগণ হেলমেট ব্যবহার করুন। ১৯। ঘন ঘন লেন পরিবর্তন করবেন না। ২০। ওভারটেক, ওভারলোড, ওভার স্পীড, অসতর্কতা ও মোবাইল ফোন ব্যবহার সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।

পথচারীদের প্রতি ১। হঠাৎ দৌড়ে রাস্তা পার হবেন না। ২। জেব্রা ক্রসিং, ওভারব্রীজ ও আন্ডারপাস দিয়ে রাস্তা পারাপার হোন। ৩। রাস্তা পারাপারের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলবেন না। ৪। ফুটপাত দিয়ে চলাচল করুন। ৫। যে রাস্তায় ফুটপাত নেই সেই রাস্তার ডানপাশ দিয়ে সাবধানে চলুন। ৬। স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকগণ সতর্কতার সহিত সড়ক ও মহাসড়ক ব্যবহার করুন।

যাত্রীদের প্রতি ১। চলন্ত গাড়িতে ওঠা-নামা করবেন না। ২। কোন প্রকার দ্রব্য গাড়ি চালানো অবস্থায় জানালা দিয়ে বাহিরে ফেলবেন না। গাড়ি থেকে নামার সময় বাম পা দিয়ে নামবেন। ৩। গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালকের সাথে কথা বলবেন না। ৫।অধিক গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য চালককে উৎসাহিত করবেন না। ৬। তাড়াহুড়া করে গাড়িতে না উঠে, গাড়ি নির্দিষ্ট জায়গায় থামার পর সারিবদ্ধভাবে উঠুন। ৭। গাড়িতে বসে ধূমপান করবেন না। ৮। যেখানে সেখানে গাড়ি থামাতে চালককে উৎসাহিত/অনুরোধ করবেন না। ৯। সময় বাঁচাতে ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গাড়িতে উঠবেন না। (কারণ- সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি) ১০। গাড়ি চালক ও হেলপারদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখার অহ্বান জানান।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments